মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

কৃষি তথ্য সার্ভিস

আমাদের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান অনস্বীকার্য। কৃষকদের প্রায় প্রতিদিনই বীজ, ফসল ও জমি সংক্রান্ত কোনো না কোনো সমস্যায় পড়তে হয়। সর্বসাধারণকে তথ্য ও আনুষঙ্গিক সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র থেকে কৃষকদেরকে যথাসময়ে সঠিক তথ্য সরবরাহ করার উদ্দেশ্যেই জাতীয় ই-তথ্যকোষের কৃষি পাতাটি। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের তৈরি ও প্রকাশিত গবেষণাধর্মী কৃষিবিষয়ক তথ্যাদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিবেশন করে তথ্যকোষের কৃষি বিভাগকে সমৃদ্ধিতে সহায়তা করেছেন। এই বিভাগে কৃষিবিষয়ক তথ্যাদি টেক্সট, অডিও, ভিডিও, এনিমেশন এবং ছবি আকারে পাওয়া যাবে।

http://www.infokosh.gov.bd/category/1-agriculture 

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে ইত্যাদি দেশের প্রচুর চাহিদাও পূরণ করে আসছে। বলা চলে পাহাড়ে মিশ্র ফলের এই চাষ কৃষি সেক্টরে বিপ্লব এনেছে। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কমলা ও মাল্টার মতো ফলের উৎপাদন। এখানকার সুস্বাদু কমলা আর মাল্টা বাজারজাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। উদ্ভাবিত এই ফল এখন সারাদেশে পরিচিত নাম সবুজ কমলা ও হলুদাভ মাল্টা। পাহাড়ে আসা পর্যটকদের হাত ধরে টক-মিষ্টি স্বাদের গোলাকার এই ফল এখন পাহাড়ের সীমানা পেরিয়ে পাওয়া যাচ্ছে সারাদেশে। এতে বাণিজ্যিকভাবেও আসছে সফলতা। আয় যাচ্ছে কৃষকের হাতে। এখন জুম চাষের পরিবর্তে পাহাড়ীরা কমলাসহ মিশ্র ফল চাষের প্রতি ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে তিন পার্বত্য জেলার ৬শ’ কৃষক পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় সরকার। সে লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পাহাড়ে মিশ্র ফল চাষের উদ্যোগ নেয়। প্রাথমিক অবস্থায় ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে কমলা, মাল্টা ও মিশ্র ফসল চাষ শুরু হয়। ১৯৯৯ থেকে ২০১৬ সাল মাত্র ১৮ বছরের ব্যবধানে পাহাড়ে মিশ্র, বিশেষত কমলা ও মাল্টা চাষ করে বহু পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

গত এক বছরের ব্যবধানে পার্বত্য তিন জেলায় ফল উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ টনের বেশি। উদ্যান ফসল চাষের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় ফলের আবাদ বাড়িয়েছেন পার্বত্য এলাকার কৃষক। ২০০৬-০৭ মৌসুমে তিন জেলায় প্রায় ১০ লাখ টন ফল উৎপাদন হয়েছে। সর্বশেষ মৌসুমে এ সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ১৭ লাখ টনে, যা গত এক দশকে পার্বত্য জেলায় ফল উৎপাদনের নতুন রেকর্ড। পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৯৭ হাজার ৬৮৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ১৬ লাখ ৪১ হাজার ৫৩০ টন ফল। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৯৭ হাজার ৭০৬ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৬ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ ৪৬৬ টন।

প্রকৃতিগতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী এলাকাগুলো উর্বর ও অনেক প্রকার ফসল উৎপাদনের উপযোগী। একটা সময় ছিল পাহাড়ে জুম চাষ ছাড়া অন্য কোন আবাদ হতো না। পাহাড়ীরাও তাদের এই ঐতিহ্যবাহী ফসল উৎপাদনের প্রক্রিয়া থেকে আধুনিক চাষাবাদের প্রতি মনোযোগীও ছিল না। তবে জুম চাষ সম্পূর্ণ প্রকৃতিনির্ভর হওয়ায় অধিক খরা বা বৃষ্টিতে উৎপাদন ব্যাহত হতো। এতে খাদ্যাভাবও দেখা দিত। এখন বিকল্প ফলন হিসাবে ফলের চাষ পাল্টে দিয়েছে পাহাড়ের অর্থনীতির চিত্র।

চাষীরা হচ্ছে উপকৃত। ফল চাষের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। এতে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নব উদ্দীপনা তৈরি হচ্ছে, ফলনে উৎসাহ যোগাচ্ছে। তাদের স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ দেখাচ্ছে। তবে সমস্যা হচ্ছে, সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদকরা। পাহাড় থেকে ফসল তুলে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। স্থানীয় পর্যায়ে নেই কোন কোল্ডস্টোরেজ ব্যবস্থাও। ফলে চাষিরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে কম দামে ফড়িয়াদের কাছে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। তাই আরও সরকারী উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু ফসল উৎপাদনের দিকেই নজর দিলে হবে না, সে ফসল ন্যায্য দামে বিক্রি করার নিশ্চয়তা বিধান করাও জরুরী।

ছবি


সংযুক্তি



Share with :
Facebook Twitter