মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সাংগঠনিক কাঠামো

১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাংগঠনিক কাঠামো।

উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন রহিত করিয়া একটি নূতন অধ্যাদেশ প্রণয়নকল্পে প্রণীত
 
 
অধ্যাদেশ
 

যেহেতু উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন রহিত করিয়া একটি নূতন অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং

 

যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;

 

সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেনঃ-

   
    প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
   
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ  
১। (১) এই অধ্যাদেশ স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) অধ্যাদেশ, ২০০৮ নামে অভিহিত হইবে। 

(২) ইহা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ১৬ নং অধ্যাদেশ) ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আইন, ১৯২৪ (১৯২৪ সনের ২ নং আইন) এর আওতায় গঠিত এলাকা ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হইবে। 

(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
   
 
   
     
   
সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,- 

(১) 'আচরণ বিধি' অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত আচরণ বিধি; 

(২) 'আর্থিক প্রতিষ্ঠান' অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর ধারা ২ এবং অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৮ নং আইন) এর ধারা ২ এ সংজ্ঞায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান; 

(৩) 'ইমারত' অর্থে কোন দোকান, বাড়িঘর, কুঁড়েঘর, বৈঠকঘর, চালা, আস্তাবল বা যেকোন প্রয়োজনে যেকোন দ্রব্যাদি সহযোগে নির্মিত কোন ঘেরা, দেয়াল, পানি-সংরক্ষণাগার, বারান্দা, প্লাটফরম, মেঝে ও সিঁড়িও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; 

(৪) 'ইউনিয়ন' এবং 'ইউনিয়ন পরিষদ' অর্থ The Local Government (Union Parishads) Ordinance, 1983 (LI of 1983) এর section 2 এর যথাক্রমে clauses (26) এবং (27) এ সংজ্ঞায়িত “Union” এবং “Union Parishad”; 

(৫) 'উপজেলা' অর্থ এই অধ্যাদেশের ধারা ৬ এর অধীন উপজেলা হিসাবে ঘোষিত এলাকা এবং বিদ্যমান উপজেলাসমূহ; 

(৬) 'উপজেলা পরিষদ বা পরিষদ' অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন গঠিত উপজেলা পরিষদ; 

(৭) 'কর' অর্থ কোন কর, উপ-কর, টোল, রেইট, ফি, শুল্ক অথবা এই অধ্যাদেশের অধীন আরোপযোগ্য কোন করও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; 

(৮) 'কমিশন' অর্থ স্থানীয় সরকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ১৫ নং অধ্যাদেশ) এর অধীন গঠিত স্থানীয় সরকার কমিশন; 

(৯) 'চেয়ারম্যান' অর্থ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান; 

(১০) 'ভাইস চেয়ারম্যান' অর্থ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান; 

(১১) 'অস্থায়ী চেয়ারম্যান' অর্থ চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি; 

(১২) 'মহিলা সদস্য' অর্থ পরিষদের সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত মহিলা সদস্য; 

(১৩) 'তফসিল' অর্থ এই অধ্যাদেশের কোন তফসিল; 

(১৪) 'তহবিল' অর্থ ধারা ৪১ এর অধীন গঠিত উপজেলা পরিষদের তহবিল; 

(১৫) 'নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ' অর্থ সরকার বা এই অধ্যাদেশের কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত যেকোন সরকারি কর্মকর্তা;

(১৬) 'নির্বাচন কমিশন' অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশন; 

(১৭) 'নির্বাচন পর্যবেক্ষক' অর্থ কোন ব্যক্তি বা সংস্থা যাহাকে নির্বাচন কমিশন বা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক অনুমোদিত কোন ব্যক্তি কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন কোন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য লিখিতভাবে অনুমতি দেওয়া হইয়াছে; 

(১৮) "নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ" অর্থ দণ্ডবিধিতে সংজ্ঞায়িত চাঁদাবাজি, চুরি,সম্পত্তি আত্নসাৎ, বিশ্বাস ভংগ, ধর্ষণ, হত্যা, খুন এবং Prevention of Corruption Act, 1947 (Act. II of 1947) এ সংজ্ঞায়িত "Criminal misconduct"ও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; 

(১৯) 'প্রবিধান' অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত প্রবিধান; 

(২০) 'পৌর প্রতিনিধি' অর্থ স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ১৭ নং অধ্যাদেশ) এর অধীন গঠিত পৌরসভার মেয়র বা তাহার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি; 

(২১) 'বাজার' অর্থ এমন কোন স্থান যেখানে জনগণ মাছ, মাংস, ফল-মূল, শাক-সব্জী বা অন্য যে কোন খাদ্য দ্রব্য বিক্রয় ও ক্রয়ের জন্য জড়ো হয় অথবা পশু বা গরু-ছাগল ও পশুপক্ষী ক্রয়-বিক্রয় হয় এবং এমন কোন স্থান যাহা বাজার হিসেবে বিধি অনুযায়ী ঘোষণা করা হইয়াছে; 

(২২) 'বাজেট' অর্থ উপজেলা পরিষদের একটি আর্থিক বৎসরের আয় ও ব্যয়ের নির্ধারিত আর্থিক বিবরণ; 

(২৩) 'বিধি' অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি; 

(২৪) 'ব্যাংক' অর্থ - 

(ক) ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ৫(ণ) এ সংজ্ঞায়িত ব্যাংক কোম্পানী; 

(খ) The Bangladesh Shilpa Rin Sangstha Order, 1972 (P.O No. 128 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা; 

(গ) The Bangladesh Shilpa Bank Order, 1972 (P.O No. 129 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক; 

(ঘ) The Bangladesh House Building Finance Corporation Order, 1973 (P.O No. 7 of 1973) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন; 

(ঙ) The Bangaladesh Krishi Bank Order, 1973 (P.O. No. 27 of 1973) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক; 

(চ) The Investment Corporation of Bangladesh Ordinance, 1976 (Ordinance No. XL of 1976) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ; 

(ছ) The Rajshahi Krishi Unnayan Bank Ordinance, 1986 (Ordinance No. LVIII of 1986) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক; বা 

(জ) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Basic Bank Limited (Bangladesh Small Industries and Commerce Bank Limited); 

[ (২৬) ''লাভজনক পদ (Office of Profit) '' অর্থ প্রজাতন্ত্র কিংবা সরকারি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ বা সরকারি মালিকানাধীন শতকরা পঞ্চাশ ভাগ বা তদূর্ধ্ব শেয়ারভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানীতে সার্বক্ষণিক বেতনভুক্ত পদ বা অবস্থান;]

(২৭) 'সংক্রামক ব্যাধি' অর্থে এমন ব্যাধি যাহা একজন ব্যক্তি হইতে অন্য ব্যক্তিকে সংক্রামিত করে এবং সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রকাশিত অন্য যে কোন ব্যাধিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; 

(২৮) 'সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ' অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ; 

(২৯) 'সদস্য' অর্থ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ অন্য যে কোন সদস্য; 

(৩০) 'সরকার' অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; 

(৩১) 'সরকারি রাস্তা' অর্থ সরকার কিংবা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান অথবা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রক্ষণাবেক্ষণাধীন জনসাধারণের চলাচলের জন্য সকল রাস্তা; 

(৩২) 'স্থানীয় কর্তৃপক্ষ' অর্থ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা কোন আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোন বিধিবদ্ধ সংস্থা; 

(৩৩) 'স্থায়ী কমিটি' অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন গঠিত উপজেলা পরিষদের স্থায়ী কমিটি; 

(৩৪) 'স্থানীয় পরিষদ' অর্থ আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ; এবং 

(৩৫) 'হাট' অর্থ পণ্যসামগ্রী, খাদ্য, মালামাল, পশুসম্পদ, ইত্যাদি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে ক্রয়বিক্রয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান।
   
 
   
    দ্বিতীয় অধ্যায়
পরিষদ
   
প্রশাসনিক এককাংশ বা ইউনিট এবং উপজেলা ঘোষণা, ইত্যাদি  
৩। (১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলা একটি প্রশাসনিক এককাংশ বা ইউনিট হিসাবে গণ্য হইবে। 

(২) এই অধ্যাদেশ বলবৎ হইবার পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট এলাকা সমন্বয়ে নূতন উপজেলা ঘোষণা করিতে পারিবে। 

(৩) সরকার কোন উপজেলা পরিষদের অনুরোধে অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে- 

(ক) নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া উপজেলা পরিষদের কার্যালয় পরিবর্তন করিতে পারিবে; এবং 

(খ) উপজেলা পরিষদকে অধিকতর প্রতিনিধিত্বশীল করিবার লক্ষ্যে সীমানা হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবেঃ 

তবে শর্ত থাকে যে, উপজেলা পরিষদের নামকরণ ব্যক্তির নামে হইবে না। 

(৪) সরকার সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের সহিত পরামর্শ করিয়া, যদি কোন উপজেলা পরিষদের এখতিয়ার কোন এলাকার উপর না থাকে, তাহা হইলে এই সংক্রান্ত দায়-দেনা হইতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদকে মুক্ত করিবার অধিকার রাখিবে।
   
 
   
     
   
উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি  
৪। (১) এই অধ্যাদেশ বলবৎ হইবার পর, সরকার, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপণ দ্বারা, প্রত্যেক উপজেলায় এই অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী একটি উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করিবে। 

(২) পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশ ও তদধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধি, ইত্যাদি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে অথবা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে। 

(৩) পরিষদ এই অধ্যাদেশসহ অন্য কোন আইনের দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা, কার্যাবলী এবং দায়িত্ব পালন করিবে।
   
 
   
     
   
পরিষদ গঠন  
৫। (১) এই অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ সমন্বয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হইবে, যথাঃ- 

(ক) চেয়ারম্যান; 

(খ) দুই জন ভাইস চেয়ারম্যান, যাহার মধ্যে একজন মহিলা হইবেন; 

(গ) উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সাময়িকভাবে চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি; 

(ঘ) উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক পৌরসভা, যদি থাকে, এর মেয়র অথবা [ পৌরসভা কর্তৃক মনোনীত একজন কাউন্সিলর] এবং 

(ঙ) উপ-ধারা (৪) অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণ। 

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগণ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত ভোটার তালিকায় অনর্ভুক্ত ভোটারদের দ্বারা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিধারিত সময়, স্থান ও পদ্ধতিতে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচিত হইবেন। 

(৩) কোন উপজেলার এলাকাভুক্ত কোন ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা বাতিল হইবার কারণে উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) ও (ঘ) এর অধীন উপজেলা পরিষদের সদস্য থাকিবেন না এবং এইরূপ সদস্য না থাকিলে উক্ত উপজেলা পরিষদ গঠনের বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না। 

(৪) প্রত্যেক উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা, যদি থাকে, এর মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের সম সংখ্যক আসন, অতঃপর সংরক্ষিত আসন বলিয়া উল্লিখিত, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে, যাহারা উক্ত উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা, যদি থাকে, এর সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য বা কাউন্সিলরগণ কর্তৃক তাহাদের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেনঃ 

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারায় কোন কিছুই কোন মহিলাকে সংরক্ষিত আসন বহির্ভুত আসনে সরাসরি নির্বাচন করিবার অধিকারকে বারিত করিবে না। 

ব্যাখ্যাঃ- এই উপ-ধারার অধীন সংরক্ষিত আসনে সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, যদি উক্ত সংখ্যার ভগ্নাংশ থাকে এবং উক্ত ভগ্নাংশ অর্ধেক বা তদুর্ধ্ব হয়, তবে উহাকে পূর্ণ সংখ্যা বলিয়া গণ্য করিতে হইবে এবং যদি উক্ত ভগ্নাংশ অর্ধেকের কম হয়, তবে উহাকে উপেক্ষা করিতে হইবে। 

(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন উপজেলা পরিষদ গঠিত হইবার পর উহার অধিক্ষেত্রের মধ্যে নূতন পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হইবার কারণে উপজেলা পরিষদের পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত আসন সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটিবে না এবং এ কারণে বিদ্যমান উপজেলা পরিষদ গঠনের বৈধতা ক্ষুন্ন হইবে না। 

(৬) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) ও (ঘ) তে উল্লিখিত ব্যক্তি এই অধ্যাদেশের অধীন পরিষদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন। 

(৭) কোন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এর পদসহ শতকরা ৭৫ ভাগ সদস্যের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে এবং নির্বাচিত সদস্যগণের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইলে, পরিষদ, এই অধ্যাদেশের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, যথাযথভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে। 

ব্যাখ্যাঃ গঠিত পরিষদের মোট সদস্যের (৭৫%) পঁচাত্তর শতাংশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভগ্নাংশের উদ্ভব হইলে এবং তাহা দশমিক পাঁচ শূণ্য শতাংশের কম হইলে অগ্রাহ্য করিতে হইবে এবং দশমিক পাঁচ শূণ্য শতাংশ বা তার বেশি হইলে তাহা এক গণ্য করিতে হইবে।
   
 
   
     
   
উপজেলা গঠন  
৬। (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কতকগুলি ইউনিয়ন, ক্ষেত্রমত, পৌরসভার সমন্বয়ে একটি উপজেলা ঘোষণা করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উপজেলার নাম এবং উক্ত উপজেলার সীমানা নির্দিষ্ট করিতে হইবেঃ 

তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (১) অনুসারে ঘোষিত কোন উপজেলার উপজেলা পরিষদ ইহার এলাকাভুক্ত এবং বাতিলকৃত কোন ইউনিয়ন বা পৌরসভার প্রতিনিধিত্ব না থাকিবার কারণে উক্ত উপজেলা পরিষদ গঠনের বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না।
   
 
   
     
   
সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ  
৭। উপজেলাসমূহের সীমানা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও সহকারী সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবেন।
   
 
   
    তৃতীয় অধ্যায়
চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন
   
ভোটার তালিকা ও ভোটাধিকার  
৮। (১) প্রতিটি উপজেলার জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত একটি ভোটার তালিকা থাকিবে। 

(২) কোন ব্যক্তি কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি তিনি- 

(ক) বাংলাদেশের নাগরিক হন; 

(খ) আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক না হন; 

(গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত না হন; এবং 

(ঘ) সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা বলিয়া গণ্য হন। 

(৩) কোন ব্যক্তির নাম নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত যে উপজেলার ভোটার তালিকায় লিপিবদ্ধ থাকিবে, তিনি সেই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।

http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=984

ছবি


সংযুক্তি



Share with :
Facebook Twitter